বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের অধীনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ওই কেন্দ্রে উপস্থিত হন এক নারী চাকরিপ্রার্থী। তবে বাড়িতে রেখে আসার মতো কোনো অভিভাবক না থাকায় দুগ্ধপোষ্য ছোট্ট সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই তাঁকে পরীক্ষা দিতে আসতে হয়। কিন্তু পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসতেই শিশুটির দেখাশোনা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েন ওই পরীক্ষার্থী। অপরিচিত ও জনাকীর্ণ পরিবেশে সন্তানকে কার জিম্মায় রেখে পরীক্ষা হলে প্রবেশ করবেন, তা নিয়ে কেন্দ্র চত্বরেই অসহায় ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তিনি।
বিষয়টি দূর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নজরে আসে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তায় নিয়োজিত নারী পুলিশ কনস্টেবল শিল্পীর। তিনি এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সেই অসহায় মায়ের পাশে ছুটে যান। কোনো ধরনের দ্বিধা না রেখে কনস্টেবল শিল্পী পরম স্নেহে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন এবং নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভয় দেন ওই নারীকে। মায়ের বিকল্প আশ্রয়ে শিশুটিকে শান্ত রেখে পরীক্ষা চলাকালীন পুরো সময় তিনি পরম যত্নে সেবা ও সঙ্গ দেন। ফলে কোনো প্রকার মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা ছাড়াই নির্বিঘ্নে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে সক্ষম হন ওই নারী প্রার্থী।
পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বের খাকি পোশাকের আড়ালে একজন নারী পুলিশ সদস্যের এমন স্নেহশীল ও সংবেদনশীল রূপ উপস্থিত অন্যান্য পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের গভীরভাবে নাড়া দেয়। অনেকেই মুঠোফোনে এই মানবিক মুহূর্তের দৃশ্য বন্দি করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপস্থিত সাধারণ মানুষ কনস্টেবল শিল্পীর এমন পেশাদারিত্ব ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সামাজিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মতে, একজন মা যেন সন্তানের চিন্তায় তাঁর বহুদিনের সাধনার পরীক্ষার সুযোগ হারিয়ে না ফেলেন, সেই মানবিক অনুভূতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে আসার ঘটনাটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ী। এটি কেবল একটি শিশুর সাময়িক দেখাশোনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সাথে সাধারণ মানুষের মানসিক দূরত্ব কমিয়ে আনার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। কনস্টেবল শিল্পীর এই আন্তরিক উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশের সামগ্রিক জনবান্ধব ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল ও প্রশংসিত করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...