Logo Logo

পরকীয়ার সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা

বাকেরগঞ্জে মুক্তার দাফন সম্পন্ন, থামছে না অবুঝ শিশুদের কান্না


Splash Image

রাজধানীর খিলক্ষেতে পরকীয়ার সন্দেহে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত গৃহবধূ মুক্তা আক্তারের (২৫) লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের সরশি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


এর আগে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অকালমৃত্যুর শিকার এই তরুণী বাকেরগঞ্জের সরশি গ্রামের মৃত নিজাম হাওলাদারের কন্যা।

এদিকে জন্মদাত্রী মাকে হারিয়ে পাঁচ বছর বয়সী শিশু সাফওয়ান ও চার বছর বয়সী তাসফিয়ার করুণ আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার বাতাস। শিশুদের অবুঝ কান্না দেখে উপস্থিত প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখের পানি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের উত্তর কাজলাকাঠী গ্রামের আলতাফ সিকদারের ছেলে সোহেল সিকদারের সাথে ৬-৭ বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে মুক্তার বিবাহ হয়। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে সোহেল সিকদার স্ত্রী ও সন্তানসহ ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। তবে বেশ কিছুদিন ধরে পরকীয়ার সন্দেহ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

গত ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত ২টার দিকে খিলক্ষেতের ভাড়া বাসায় মুক্তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান স্বামী সোহেল। নির্যাতনের বিভৎসতা সোহেল নিজেই নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিও চিত্র নিহত মুক্তার ভাই তারেক হাওলাদারের মোবাইলে পাঠিয়ে বোনকে আর কোনো দিন দেখতে না পাওয়ার হুমকি দেন। তারেক তার বোনকে না মারার জন্য আকুতি জানালেও রক্ষা পাননি মুক্তা।

ঘটনার পরের দিন বুধবার সকাল ১১টার দিকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে সোহেল খিলক্ষেত থানায় গিয়ে স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন। তবে পুলিশের তীক্ষ্ণ জেরার মুখে একপর্যায়ে তিনি স্ত্রী মুক্তাকে পিটিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন। ঘটনার পরেই খিলক্ষেত থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

নিহতের ভাই তারেক হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তার বোনকে সুপরিকল্পিতভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে সোহেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্যাতনের সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বোন হত্যার অপরাধে ঘাতক সোহেলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন।

খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, অভিযুক্ত স্বামীকে আটকের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে ঢাকা মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতের অপর ভাই তানভীর হাওলাদার বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

প্রতিবেদক- মোঃ জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...