Logo Logo

বাকেরগঞ্জে পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন


Splash Image

পরকীয়ার ভিত্তিহীন সন্দেহে এক গৃহবধূকে রাতভর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) রাতে এই নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


নিহত গৃহবধূর নাম মুক্তা আক্তার (২৫)। তাঁর বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শিকদারকে ঢাকার উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর কাজলকাঠি গ্রামের আলতু শিকদারের ছেলে সোহেল শিকদারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় মুক্তা আক্তারের। মুক্তা পার্শ্ববর্তী দুধল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম শরসি গ্রামের মরহুম নিজাম হাওলাদারের মেয়ে। জীবিকার তাগিদে বিয়ের পর থেকেই তারা রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে কোনো কারণ ছাড়াই মুক্তার ওপর পরকীয়ার অমূলক সন্দেহ পোষণ করে আসছিল স্বামী সোহেল। এ নিয়ে পরিবারে প্রায়ই কলহ ও অশান্তি সৃষ্টি হতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার দিবাগত রাতে খিলগাঁওয়ের বাসায় মুক্তার ওপর চরম পাশবিক নির্যাতন চালায় সোহেল। দীর্ঘ সময় ধরে এলোপাতাড়ি মারধরের একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মুক্তা।

ঘটনার খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর পুলিশ পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে রাজধানীর খিলগাঁও থানায় সোহেল শিকদারকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি ঘাতক স্বামীর। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে ঢাকার উত্তরা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর বাকেরগঞ্জের দুধল ইউনিয়নে বাবার বাড়িতে মুক্তা আক্তারের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে চোখের জলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় সমাহিত করা হয়।

নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, পরকীয়ার মিথ্যা অজুহাতে সোহেল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে মুক্তাকে হত্যা করেছে। একজন নিরপরাধ নারীকে এভাবে পিটিয়ে মারার দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তারা, যাতে আর কোনো স্বামী এমন পাশবিক আচরণ করার সাহস না পায়।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...