বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মণির উদ্দিন মণিরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নাজমূল হুদা হিমেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, মো. আরিফুর রহমান খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিল, জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিন, সিলেট বিভাগীয় জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম জহির এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সমছু মিয়া।
এছাড়াও সভায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের জাতীয় পার্টি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নয় বছরের শাসনামল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর শাসনামলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ সরকারকে বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে জেলা ও উপজেলা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপও নিয়েছিলেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন, সে ব্যবস্থাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
এরশাদকে স্বৈরাচার আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, যারা পল্লীবন্ধু এরশাদকে স্বৈরাচার বলে সমালোচনা করেন, তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও জনগণের সঙ্গে আচরণও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন বেড়েছে। গুম, হত্যাকাণ্ড, রাহাজানি, লুটপাট, সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে ‘মব কালচার’-এর মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমান বিএনপি সরকারকে গণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা না করে জনগণের পালস বুঝে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে। জনগণের অধিকার, নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্প্রতি রংপুরে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী দিনে সুনামগঞ্জ জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে হবে। জেলা থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জাতীয় পার্টির প্রকৃত সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করে জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। জনগণের পাশে থেকে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে পারলেই জাতীয় পার্টি আবারও দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই দলের মূল শক্তি। তাই তাদের মতামত, প্রত্যাশা ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করে আগামী দিনে এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় পার্টি একটি গণমুখী, জনকল্যাণমুখী ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায়।
সভায় বক্তারা সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নতুন সদস্য সংগ্রহ, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়করণ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টিকে তৃণমূলের মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...