Logo Logo

সামাজিক মাধ্যমে অশ্লীল বার্তা ও ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়াবাসীর ক্ষোভ


Splash Image

মাগুরমারী চৌরাস্তায় সর্বস্তরের মানুষের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন; সাইবার সুরক্ষা আইনসহ একাধিক ধারায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের।


বিজ্ঞাপন


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় এক সম্মানিত আলেম ও ব্যবসায়ীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন, পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ক্বারী মো. আব্দুর রউফ মুন্সি নামের ওই ব্যক্তির চরিত্র হনন ও সাইবার মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় মাগুরমারী চৌরাস্তা বাজারে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মাগুরমারী চৌরাস্তা বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আমজুয়ানি, কনপাড়া, খল্টাপাড়া ও খেকিডাঙ্গীসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের শত শত সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে স্থানীয় সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু বলেন, "একজন আলেম মানুষকে প্রকাশ্য রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করা চরম অমানবিক। এমনকি এক নারীকে জোরপূর্বক এনে সেখানে বেঁধে সাজানো ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। কোনো নাগরিক এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। আমরা এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।"

ভুক্তভোগী আব্দুর রউফের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আমজুয়ানি গ্রামের বাসিন্দা ও লিটার ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের কাছে দীর্ঘদিন ধরে এমদাদুল হকসহ একটি চক্র ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি ব্যবসার ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। দুর্বৃত্তরা তার সঙ্গে থাকা পুরো টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং রাস্তায় বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে পাশের একটি পুকুরে ফেলে পানিতে মাথা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।

পরবর্তীতে তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গরু বাঁধার রশি দিয়ে আমগাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তার গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ফের ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তার পাগড়ি খুলে ফেলা হয়, দাড়িতে কাদা মাখিয়ে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে চূড়ান্ত অপমান করা হয়। আব্দুর রউফের অভিযোগ, চক্রটি এক নারীকে জোর করে এনে তার পাশে রশি দিয়ে বেঁধে আপত্তিকর দৃশ্য তৈরি করে ভিডিও ধারণ করে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পরও চক্রটি চাঁদা দাবি অব্যাহত রাখে এবং দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে ধারণকৃত সেই অবমাননাকর ভিডিও 'তানভীর মোহাম্মদ শাকিল'সহ বিভিন্ন ফেক ফেসবুক আইডি থেকে ছড়িয়ে দিয়ে তার সম্মানহানি ঘটায়।

এ ঘটনায় ক্বারী আব্দুর রউফ বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পঞ্চগড় সদর থানায় এমদাদুল হককে (৩৫) প্রধান আসামি করে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির হত্যাচেষ্টা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ধারার পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫(২) ও ২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনার বিষয়ে লিখিত এজাহার নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...