বিজ্ঞাপন
শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাটারি রিসাইক্লিং কার্যক্রমের কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মনিরা খাতুন বলেন, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ছাড়া কারখানাটি গড়ে তোলা সম্ভব হতো না। তাঁদের সহযোগিতা ও দোয়ায় একদিন এখানে ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা করেন।
তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খাগড়াবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে খাগড়াবাড়িয়া একটি শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এমএস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও গ্রীন ডাইনেস্টি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যাডভোকেট সরিফুল ইসলাম দুর্জয় বলেন, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “দক্ষ কর্মী কখনো বেকার থাকে না।”
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ নাজমুল হক সৈকত জানান, বর্তমানে পুরোনো ব্যাটারি রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাটারি তৈরির কাঁচামাল উৎপাদন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাটারি উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, চীনের বিনিয়োগকারীরা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন এবং চীনের প্রকৌশলীরা সেখানে কাজ করছেন। পাশাপাশি ভারত ও নেপালের ব্যবসায়ীরাও যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।
ব্যাটারি রিসাইক্লিং শিল্পে পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়ায় কারখানা স্থাপনের সময় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, পুরোনো ব্যাটারির অংশ গলানোর প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় সম্পন্ন করা হয়। গলিত বর্জ্য যাতে কারখানার বাইরে যেতে না পারে, সে জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এটিপি) ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। ব্যবহৃত পানি পরিশোধনের পর পুনরায় ব্যবহার করা হয় এবং ‘জিরো ডিসচার্জ’ ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি তাদের। ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে স্ক্রাবার ও ফিউম এক্সট্রাকশন ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরিশোধন প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত ডাস্ট নির্দিষ্ট ব্যবস্থায় সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া স্ক্র্যাপ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সেফটি ট্যাংক ও সোকওয়েল এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা টয়লেট ও বাথরুমের ব্যবস্থাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবহন, খাবার, আবাসনসহ বিভিন্ন সেবা খাতেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে কত সময়ের মধ্যে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পরিকল্পনাটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করবে। একই সঙ্গে শিল্পকারখানার সম্প্রসারণের সঙ্গে পরিবেশগত নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এমএস মেটাল কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কাশিয়ানীর খাগড়াবাড়িয়ায় নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি এলাকাটিতে শিল্প ও সেবা খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...