বিজ্ঞাপন
হাজী শামসুল হক মোল্লা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগম বিবাহিত। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। কাজুলী ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তানই নিজেদের সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক মোল্লা নিজের জমি বিক্রি করে হজ পালন করতে যান। এ সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার পর থেকে বিপত্নীক এই বৃদ্ধ বাবার খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে সন্তানদের আগ্রহ কমে যায়। বর্তমানে তাঁর ভরণ-পোষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে কেউই এগিয়ে আসছেন না।
গত কয়েক দিন ধরে হাজী শামসুল হক মোল্লা বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে তাঁকে রেখে আসা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ছয় সন্তানকে মানুষ করার পর জীবনের শেষ বয়সে বাবার এমন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।
বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অসুস্থ। এর পাশাপাশি আমার বাড়িতে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। এ কারণে আমার পক্ষে বাবাকে নিজের কাছে রাখা সম্ভব নয়।’
মেজ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, ‘আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র চার লাখ টাকা করে দিয়েছেন। অন্যদিকে দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ আট কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশোনা করব?’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হাজী শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল মোল্লা ও রেয়াজুল মোল্লার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, ‘শামসুল হক মোল্লার জমিজমা লিখে নিয়ে এখন তাঁর সন্তানরা তাঁকে আশ্রয় দিচ্ছে না। তিনি যদি সন্তানদের নামে জমি লিখে না দিতেন, তাহলে হয়তো আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। সন্তানরা তাঁর সঙ্গে যা করছেন, তা কোনো বাবার জন্যই কাম্য নয়।’
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা বলেন, ‘আমি এখন কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদের বড় করলাম, তাদের কাছেই আজ আমি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।’
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি তাঁর দেখাশোনা না করেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...