বিজ্ঞাপন
আহত ইমন কাজী গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৪.৭৫ পেয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতী ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর বাবার নাম ছিদ্দিক কাজী।
সোমবার (২ নভেম্বর) গোপালগঞ্জ শহরের অপটিমাম কোচিং সেন্টারে কোচিং করতে আসেন ইমন। পরে শহরের ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বাবার পাঠানো ১৯ হাজার টাকা এবং মামা ইকবাল কাজীর পাঠানো ৭০ হাজার টাকাসহ মোট ৮৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এরপর বন্ধু হামীম মীরের মোটরসাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা।
পথে বেদগ্রাম হাজী নাদের আলী সাদেক আলী স্কুলের সামনে পৌঁছালে বাপ্পী কাজী, শামীম কাজী ও তামিম কাজী তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে ইমনের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শামীম কাজী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ইমনের পিঠে সাতটি কোপ দেন। এ ছাড়া হাতুড়ি দিয়ে তাঁর হাত-পা, মুখ ও মাথায় আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ইমনের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গোপীনাথপুর গ্রামের নওশের কাজীর ছেলে তুহিন কাজী ও আমিনুর কাজী, আমিনুর কাজীর ছেলে বাপ্পী কাজী এবং জাকির কাজীর ছেলে শামীম কাজী ও তামিম কাজীকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
আহত ইমন কাজী বলেন, তাঁর চাচাতো ভাই ইসলাম কাজীর ছেলে সালমান কাজীর সঙ্গে তাঁর চলাফেরা রয়েছে। প্রায় ১৫ দিন আগে গ্রামের একটি বিষয় নিয়ে সালমানের সঙ্গে বাপ্পী ও শামীমের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। সেই ঘটনার জের ধরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইমন আরও বলেন, হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ ৮৯ হাজার টাকা, একটি আইফোন ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় তারা। হামলার সময় ভয়ে বন্ধু হামীম মীর নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বেদগ্রামের অনেক মানুষ ঘটনাটি দেখেছেন। তাঁকে রক্ষায় কয়েকজন এগিয়ে আসার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের হাতে চাইনিজ কুড়াল থাকায় আতঙ্কে কেউ কাছে যেতে সাহস পাননি।
মাঝিগাতী দশপল্লী নেছার উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী আল মামুন বলেন, ইমন কাজী ২০২৪ সালে ওই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছিল। সহপাঠীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় আহত করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাপ্পী কাজী বলেন, নারীঘটিত একটি বিষয় নিয়ে ইমন কাজী তাঁদের এক ছোট ভাইকে মারধর করতে চেয়েছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। সাত দিন আগে এ নিয়ে ইমন তাঁকে মারধর করেন। পরে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং থানায় অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা তখন বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। ওই ঘটনার জের ধরেই তিনি ইমনকে মারধর করেছেন বলে স্বীকার করেন। বর্তমানে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুকুল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি মামলাটির তদন্ত শুরু করেছেন। তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...