বিজ্ঞাপন
গত ১৬ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে চককাওয়ালী বটতলা থেকে কানুয়ারডাঙ্গা সড়কের কানাদীঘির পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেন (৪৫)-এর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য আজগার হোসেন (২৯), নাজমুল হোসেন (৩২), নাজমা বেগম (৩৫) ও জাকিয়া সুলতানা (২২) অতর্কিতভাবে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে রড ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
হামলার সময় নজরুল ইসলামের স্ত্রী মনজিলা বেগম এবং ছোট বোন আনজিরা বেগম তাকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেলে নাজমা বেগম ও তার মেয়ে জাকিয়া সুলতানা তাদের মারধর করে এবং আটকে রাখে। এদিকে চিৎকার শুনে নজরুল ইসলামের মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৭) বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে নাজমুল হোসেন তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ইসমাইলের শ্বাসরোধ হওয়ার উপক্রম হলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার আগের দিন জাকির হোসেন পাশের বাড়ি থেকে ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য শাহরিয়ার হোসেন সৈকত (২৭) ও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট শফিকুল ইসলাম (৫২)-কে ডেকে আনেন। শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সৈকত ও তার ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৭) নজরুল ইসলামের দোকানে হামলা চালিয়ে নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে ইসমাইলকে মারধর করে। এসময় তারা দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে নগদ অর্থ নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, হামলাকারী জাকির হোসেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার এসআই মনির জামান বলেন, ঘটনার পর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে, তবে তারা পলাতক থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...