বিজ্ঞাপন
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও কাগজপত্রে ত্রুটি ও বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ না হওয়ায় ৯ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে ২৪ জন প্রার্থী বৈধভাবে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা): ডোমার ও ডিমলা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে সবচেয়ে বেশি ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৯ জন প্রার্থী বৈধতা পেয়েছেন। কাগজপত্রে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এই আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল বাংলাদেশ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-এর মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (বিএনপির সমর্থনে) লড়াই করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিনসহ বাসদ, ন্যাপ ও জাকের পার্টির প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
নীলফামারী-২ (সদর): জেলা সদরের এই আসনে ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন) এবং জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট আল-ফারুক আব্দুল লতীফের মধ্যে মূল লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল হাসনাত মো. সাইফুল্লা ও মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা): জলঢাকা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বড় ধাক্কা খেয়েছে জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জাতীয় পার্টির আমজাদ হোসেন সরকার ও ইসলামী আন্দোলনের মো. রোহান চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় এই আসনে এখন দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বৈধ প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপি মনোনীত সৈয়দ আলী ও জামায়াত মনোনীত মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী।
নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর): কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮ জন বৈধতা পেয়েছেন। এখানে বিএনপি মনোনীত মো. আব্দুল গফুর সরকার এবং জামায়াত মনোনীত আব্দুল মুনতাকিমের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন ও মো. জয়নাল আবেদীনও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানিয়েছেন, যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তারা আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তিনি আরও জানান, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নীলফামারীর প্রতিটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রার্থীরা ইতিমধ্যে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে শুরু করেছেন। শীতের প্রকোপ ছাপিয়ে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই এখন নির্বাচনি আলোচনার ঝড়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...