Logo Logo

‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ টুপি হাতে ট্রাম্প, ইরানে ফের হামলার শঙ্কা


Splash Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি আলোচিত ছবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্পকে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ (MIGA) লেখা এবং নিজের স্বাক্ষর করা একটি টুপি হাতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় বিতর্কিত মার্কিন অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে তেহরান।


বিজ্ঞাপন


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও কট্টরপন্থী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছবিটি পোস্ট করেন। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের হাতে থাকা টুপিতে তার বিখ্যাত স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এর আদলে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ লেখা রয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, টুপিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানি পতাকার প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে, যা সরাসরি তেহরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সিনেটর গ্রাহাম ছবির ক্যাপশনে লেখেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তিশালী করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমি প্রার্থনা করি এবং আশা করি, ২০২৬ সাল হবে সেই বছর, যখন আমরা ইরানকে আবারও মহান করতে পারব।”

জানা গেছে, ছবিটি গত রোববার রাতে ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার পথে প্রেসিডেন্টের বিশেষ উড়োজাহাজ ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ তোলা। এর আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, ট্রাম্প ইরানের সাধারণ জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাহসের সাথে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো ইরানিদের জন্য আশীর্বাদ কামনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে চরমে পৌঁছেছে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে ইরানকে ‘খুব কঠিন আঘাত’ সহ্য করতে হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “তারা যদি আবারও শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা করে, তবে আমরা তাদের পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব।”

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর জবাবে ইরান দোহায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। যদিও তখন একটি স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থানে সেই স্থিতিশীলতা এখন হুমকির মুখে।

মার্কিন হুমকিতে পিছপা না হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। ভেনেজুয়েলায় নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এক্সে (টুইটার) এক বার্তায় লিখেছেন, “আমরা শত্রুর কাছে মাথা নত করব না; বরং শত্রুকে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর আগ্রাসী অভিযানের পর ওয়াশিংটনের মনোযোগ এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের দিকে। ট্রাম্পের এই প্রতীকী ‘মিগা’ (MIGA) টুপি সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের দামামা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...