বিজ্ঞাপন
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-পুরুষসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৩টি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা রুজু করা হয়েছে।
তবে প্রাণহানির এই চিত্র নতুন নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে নীলফামারী সদর উপজেলার মনশাপাড়া এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের তিন ছোট ভাইবোনসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর পরের বছর ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার দাড়োয়ানী এলাকার একটি অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে প্রাণ হারান চারজন ইপিজেডকর্মী। ২০২৩ সালেও থামেনি এই মৃত্যুমিছিল। ওই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চিলাহাটি থেকে সৈয়দপুর রেলপথের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী-পুরুষসহ মোট ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটে।
রেলওয়ে বিভাগের তথ্যমতে, সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি পর্যন্ত মোট ৩৬টি অনুমোদিত লেভেল ক্রসিং রয়েছে। তবে অবাক করার বিষয় হলো, এর মধ্যে মাত্র ১৩টি ক্রসিংয়ে গেটম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি ২৩টি ক্রসিং সম্পূর্ণ অরক্ষিত, যেখানে কোনো ব্যারিয়ার বা পাহারাদার নেই।
সদর উপজেলার দারোয়ানী বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গফুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই পথে হাজার হাজার মানুষ, রিকশা, অটোরিকশা, ট্রাক্টর এমনকি মাইক্রোবাস চলাচল করে। গেটম্যান না থাকায় শুধুমাত্র একটি সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড দেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পার হতে হয়। কর্তৃপক্ষ যেন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করে, সুরক্ষার কোনো উদ্যোগ নেয় না।"
সৈয়দপুর রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী জানান, ২০২৫ সালে জেলায় ট্রেনে কাটা পড়ে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে রেলপথে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লেভেল ক্রসিংগুলোর আধুনিকায়ন ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, আর কোনো প্রাণ ঝরার আগেই যেন এই অরক্ষিত ক্রসিংগুলোতে গেটম্যান নিয়োগ ও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...