বিজ্ঞাপন
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিশেষ বিবৃতিতে জানানো হয়, কেবল সরাসরি বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীই নয়, যারা ‘দাঙ্গাকারীদের’ কোনোভাবে সহায়তা করবেন, তারাও সমপর্যায়ের শাস্তির সম্মুখীন হবেন।
বিবৃতিতে ইরানের দণ্ডবিধির কঠোর ধারাগুলোর উল্লেখ করে বলা হয়, ১৮৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো গোষ্ঠী বা সংগঠন যদি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহে লিপ্ত হয়, তবে যারা জেনে-বুঝে সেই গোষ্ঠীকে সহায়তা করবে তারাও ‘মোহারেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে গণ্য হবে; এক্ষেত্রে তারা সরাসরি সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে অংশ না নিলেও একই অপরাধে অভিযুক্ত হবেন। এছাড়া দণ্ডবিধির ১৯০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই অপরাধের শাস্তিকে অত্যন্ত ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুদণ্ড, ফাঁসি, অপরাধীর ডান হাত ও বাঁ পা কেটে ফেলা অথবা দেশের অভ্যন্তরে স্থায়ীভাবে নির্বাসিত করার মতো কঠোর বিধান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তা উপেক্ষা করেছে তেহরান। বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা বিদেশি আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করছে এবং দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা, সহানুভূতি বা ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত মোকাবিলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিচার বিভাগকে।
মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র তথ্যমতে, চলমান এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানী তেহরানে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের নজিরবিহীন দরপতনের ফলে (প্রতি ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ রিয়াল) এই ক্ষোভের সূত্রপাত হয়। যা বর্তমানে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
এদিকে, নির্বাসিত ইরানি যুবরাজ রেজা পাহলভি শনিবার ও রবিবার জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের শাহ আমলের প্রতীক (সিংহ ও সূর্য সংবলিত পতাকা) ব্যবহারের অনুরোধ জানান, যাতে জনসাধারণ জনসমাগমস্থলগুলোতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...