বিজ্ঞাপন
রোববার (১১ জানুয়ারি) নরওয়ে-ভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) প্রকাশিত এক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের নীতিমালা ও চরম অর্থনৈতিক চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত হয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৯২ জনে দাঁড়িয়েছে।
আইএইচআর জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ও সহিংস সংঘর্ষে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কয়েক দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা সীমিত থাকায় মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সরকার দাবি করেছে—বাইরের শক্তির মদদে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশে সহিংসতা ও দাঙ্গা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। রোববার ইরানের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, রোববার তিনি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, ভর্তুকি ব্যবস্থার সংস্কার এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে জনগণের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন। সাক্ষাৎকারে তিনি অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের গৃহীত ও প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার অভিযোগ করেছেন, বিক্ষোভ দমনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ব্যাপক ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গিদিওন সার বলেন, সফররত জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোব্রিন্ট-এর সঙ্গে আলোচনায় তিনি বিষয়টি তুলেছেন। তার ভাষায়, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার এখনই সময়।”
ইরানের অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...