বিজ্ঞাপন
ইরানের বর্তমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর অর্থনীতি। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের নজিরবিহীন দরপতন ঘটেছে। বর্তমানে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়েল, যা রিয়েলকে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে।
এই চরম মুদ্রাস্ফীতির ফলে মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিলে তা দ্রুত গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলোতে এই বিক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনা করেন। যদিও আলাপের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও এর আঞ্চলিক প্রভাবই ছিল মূল আলোচ্য বিষয়।
এর আগে শুক্রবার 'দ্য ইকোনমিস্ট'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, "ধারণাগত মন্তব্য না করে আমাদের উচিত ইরানে আসলে কী ঘটছে তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা।" উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ১২ দিনের প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাতের পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমানে এক নাজুক যুদ্ধবিরতি বিরাজ করছে।
বিক্ষোভ দমাতে ইরান সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী এবং এলিট ফোর্স ইসলামিক রিভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার রাতে আইআরজিসি’র সঙ্গে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই বিক্ষোভকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানি জনগণের অধিকার আদায়ে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে চিরশত্রু দেশ হলেও ইসরায়েল এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...