Logo Logo

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত নিহত ৫৩৮


Splash Image

ইরানে টানা ১৫ দিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬ শতাধিক মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) গতকাল (রোববার ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তবে সংস্থাটি বলেছে, নিহত ও আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ, গত তিন দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক কল ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিক্ষোভ, সহিংসতা ও হতাহতের সঠিক তথ্য সংগ্রহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

রোববার ইরানের কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো উপচে পড়ছে। রাজধানী তেহরানের একটি বড় হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাষ্য, তাদের মর্গে আর লাশ রাখার জায়গা নেই। ফলে নতুন মরদেহ এলে তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এখন পর্যন্ত ইরানের সরকার নিহত বা আহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও, ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক ফোন যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেই উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে।

গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের বিস্তার ও তীব্রতাও ক্রমেই বাড়ছে।

এই বিক্ষোভের মূল কারণ দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ, এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ইরানে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ রিয়াল।

মুদ্রার এই চরম দুরবস্থার কারণে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ওই ধর্মঘট থেকেই মূলত বর্তমান বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। দিন দিন বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের এই সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার যদি ‘নিষ্ঠুর পন্থা’ অবলম্বন করে, তবে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশটির অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং চলমান সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...