Logo Logo

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি

ইরানে বিক্ষোভ এখন ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধ’, সংলাপ বা সংঘাত— দুই পথেই প্রস্তুত তেহরান


Splash Image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।

ইরানের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে ‘বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘সংলাপ কিংবা যুদ্ধ’— যেকোনো পরিস্থিতির জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) রাজধানী তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি দাবি করেন, ইরানে বর্তমানে যা চলছে তা আর সাধারণ বিক্ষোভের পর্যায়ে নেই। তিনি বলেন, “বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা দেশে নাশকতা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে।” তিনি আরও জানান, নাশকতা চালানোর নির্দেশনাসম্বলিত বেশ কিছু অডিও ক্লিপ বর্তমানে ইরান সরকারের হাতে রয়েছে।

তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “সন্ত্রাসীরা কখনোই জিততে পারবে না। সরকার ও সামরিক বাহিনী জনগণকে রক্ষা করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে।”

বিক্ষোভে বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন আরাগচি। তার মতে, ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও উসকানিতেই বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যুদ্ধ কিংবা সংলাপ— যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত।”

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দীর্ঘদিনের চরম অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতি।

বর্তমানে ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ১ মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়েলের মান দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। মুদ্রার এই নজিরবিহীন অবমূল্যায়নের ফলে খাদ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পুরো দেশ বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কর্মসূচিতে কার্যত অচল।

বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। এমনকি বিক্ষোভ দমনে শক্তি প্রয়োগ করা হলে ইরানে সামরিক অভিযানের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিক্ষোভের মুখে সুর কিছুটা নরম করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রোববার এক ভাষণে তিনি দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য সবসময় প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...