প্রতীকী ছবি।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলসংযোগ এই সরু করিডরটির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই তৎপরতার পেছনে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিটি শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভারতের সামরিক মহলে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিমানঘাঁটিটি কেবলমাত্র দেশের নিজস্ব জাতীয় প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।
তবে ভারতীয় সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতও তার সামরিক প্রস্তুতি নতুন করে সাজাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপগুলো সচল করার উদ্যোগও এই সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতির অংশ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব এয়ারস্ট্রিপ সংস্কার করা হবে, সেগুলো হলো—পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। এর আগে কোচবিহার ও আসামের রূপসী বিমানবন্দর সফলভাবে পুনরায় সচল করা হয়েছে।
বর্তমানে এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) পশ্চিমবঙ্গের এসব বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, জরুরি অপারেশনাল প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই রানওয়েগুলোকে সবসময় প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা করছে ভারত। সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সেনা মোতায়েন কিংবা রসদ সরবরাহে এসব ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে এসব এয়ারস্ট্রিপ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে বেশ কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক বিমানক্ষেত্র এখন ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেছে, রানওয়েগুলো ভেঙে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও রানওয়ের আশপাশে জনবসতিও গড়ে উঠেছে।
ফলে বড় আকারের যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য এসব রানওয়ে এখনই উপযুক্ত নয়। তবে সীমিত সংস্কার ও মেরামতের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার বা ছোট সামরিক বিমান নামানোর উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
সীমান্তের ওপারে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...