বিজ্ঞাপন
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর জন্য গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানান, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় কমপক্ষে ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। তবে দুই পক্ষের নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি। এই ব্যাপক প্রাণহানির জন্য আন্দোলনকারীদের দায়ী না করে অজ্ঞাত ‘সন্ত্রাসীদের’ ওপর দায় চাপিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এই প্রথম ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিনিধি বিক্ষোভে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ধর্মীয় নেতৃত্ব এই বিক্ষোভ দমনে ‘দ্বিমুখী কৌশল’ গ্রহণ করেছে। একদিকে সরকার অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের দুর্ভোগকে ‘ন্যায্য’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে রাজপথে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অভিযান পরিচালনা করছে।
এরই মধ্যে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা সামরিক হামলার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে তেহরানের ওপর চাপ আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, এই বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি উসকানি দিচ্ছে এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
বিক্ষোভের খবর যেন বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য ইরানজুড়ে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমনকি মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের ‘স্টারলিঙ্ক’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বাধাগ্রস্ত করতে ইরান সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে।
রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত গত এক সপ্তাহের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। ভিডিওগুলোতে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি ভবনে ভাঙচুরের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো শত শত মানুষের মৃত্যু ও হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল। তবে সরকারি কর্মকর্তার এই সর্বশেষ স্বীকারোক্তি নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে চলমান শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করল।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...