Logo Logo

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাল আইস এজেন্টরা


Splash Image

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাল আইস এজেন্টরা। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে আলিয়া রহমান নামের এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী মানবাধিকার কর্মীকে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টরা। আলিয়া একজন পেশাদার সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং দীর্ঘদিনের মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী।


বিজ্ঞাপন


নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মিনিয়াপোলিসে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চালাচ্ছিল আইস এজেন্টরা। স্থানীয়রা এই অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামলে আলিয়া তাঁর গাড়ি দিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে বের করে আনছেন। এসময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আকুতি জানালেও এজেন্টরা তা আমলে নেয়নি। আশপাশে থাকা বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে এজেন্টদের থামানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চতর সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো হিসেবে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা তৈরিতে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ার হামলায় আলিয়ার দুই কাজিন নিহত হয়েছিলেন।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাঁর শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে। এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।” বাংলাদেশের এই লড়াকু মানসিকতা তাঁকে আজীবন অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা ‘আইস’ মূলত অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও অবৈধ অভিবাসীদের ডিপোর্টেশনের কাজ করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে সম্প্রতি এই সংস্থাটির তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর তাঁদের আচরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আইস দাবি করেছে, তিনি তাদের আইনি অভিযানে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...