বিজ্ঞাপন
ডেনমার্কের সংবাদমাধ্যম 'ডিআর'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেরিত সেনা ইউনিটগুলোর মূল দায়িত্ব হবে গ্রিনল্যান্ডে বড় আকারের সেনা উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং অবকাঠামোগত স্থাপনা তৈরি করা। ডেনমার্কের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল এনহেডস্লিস্টেন পার্টি সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
দলের এক মুখপাত্র জানান, “এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আমরা খবর পেয়েছি যে ইউরোপের অন্যান্য দেশও গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডে কোনো বড় শক্তি হামলা করতে চাইলে এটি তাদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।”
২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। গত ১০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের লোকজন পছন্দ করুক বা না করুক, আমরা অবশ্যই এটি দখল করব। কারণ আমরা না করলে চীন কিংবা রাশিয়া এটি দখল করে নেবে। প্রতিবেশী হিসেবে আমরা তাদের কাউকেই চাই না।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকলেও শুধু চুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। ভূখণ্ডটির মালিকানা রক্ষা করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।
আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরকে পৃথককারী বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের আয়তন ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি। যদিও এর জনসংখ্যা মাত্র ৫৬ হাজার ৫৮৩ জন, যার ৯০ শতাংশই ইনুইট জাতিগোষ্ঠীভুক্ত। ভৌগোলিকভাবে এটি উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে হলেও রাজনৈতিকভাবে এটি ডেনমার্কের অধীন। দ্বীপটির ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের মজুত রয়েছে বলে ভূতত্ত্ববিদরা নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির ফলে উত্তর মেরুর এই শান্ত জনপদে এখন ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...