বিজ্ঞাপন
শুক্রবার হোয়াইট হাউস ছাড়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্তিমিত হতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান ৮০০-র বেশি মানুষের ফাঁসি বাতিল করেছে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে আমি অত্যন্ত সম্মান জানাই।” পরবর্তীতে তিনি তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ইরানের এই পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে লেখেন— “ধন্যবাদ!”
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সামরিক হামলা চালাবে। তবে শুক্রবারের বক্তব্যে তিনি সেই কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরব এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চাপে তিনি হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সপাটে বলেন, “কেউ আমাকে বোঝায়নি। আমি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “গতকাল ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের ফাঁসি কার্যকর করার কথা ছিল। তারা কাউকে ফাঁসি দেয়নি। বিষয়টি আমার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে।” তবে ইরান সরকারের কার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছেন, সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন ইরানের প্রশংসা করছেন, তখন মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) শুক্রবার জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৯৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরবর্তীতে ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনে রূপ নেয়। যদিও বর্তমানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি শান্ত এবং জনজীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে, তবে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি এখনও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের মুক্তিকামী মানুষের পাশে থাকার যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা থেকে তিনি সরে আসবেন না।
ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...