Logo Logo

এইচআরএএনএর পরিসংখ্যান

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে


Splash Image

ইরানে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) এবং রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।


বিজ্ঞাপন


এদিকে কঠোর দমন-পীড়নের মুখে দেশটিতে বর্তমানে বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকাংশে স্তিমিত হয়ে এসেছে এবং জনজীবন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

এইচআরএএনএ-এর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৯০ জনের প্রাণহানির বিষয়টি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই সাধারণ বিক্ষোভকারী। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় আরও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী তেহরান গত চার দিন ধরে তুলনামূলক শান্ত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। ক্যাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতেও নতুন করে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, দীর্ঘ ২০০ ঘণ্টা অর্থাৎ প্রায় আট দিন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, শনিবার সকালে সংযোগের মাত্রা কিছুটা বাড়লেও তা স্বাভাবিকের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি।

বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে শুরু থেকেই সরব ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সম্প্রতি তাঁর নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দাবি করেছেন যে, তেহরান ৮০০ জনের বেশি মানুষের নির্ধারিত ফাঁসি বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি ইরান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে গণহারে ফাঁসি কার্যকর বা তা বাতিলের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

ইরান থেকে ভারতে ফিরে যাওয়া তীর্থযাত্রী ও শিক্ষার্থীরা দেশটিতে কাটানো বিভীষিকাময় সময়ের বর্ণনা দিয়েছেন। তেহরানের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা দীর্ঘ সময় নিজ নিজ আবাসস্থলে আটকা ছিলেন এবং পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক ফ্লাইট সচল রয়েছে এবং দেশটিতে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাঁরা কাজ করছেন।

অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইরানের ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে রূপ নিলেও বর্তমানে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তা দৃশ্যত শান্ত হয়ে এসেছে। তবে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...