Logo Logo

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে প্রধান তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের দখল নিলো সিরীয় বাহিনী


Splash Image

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং তাদের মিত্র আরব গোত্রীয় যোদ্ধারা দেশটির সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র ‘ওমর অয়েল ফিল্ড’ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কনোকো’ গ্যাসক্ষেত্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো এই কৌশলগত বিজয়ের খবর নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞাপন


পূর্ব সিরিয়ার দেইর এজোর প্রদেশে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) বিরুদ্ধে কয়েক দিনের তীব্র লড়াইয়ের পর এই সাফল্য অর্জন করে সিরীয় সেনাবাহিনী। ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত এই খনিগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কুর্দি বাহিনীর আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন থেকে এই সামরিক অভিযান বন্ধের জোর আহ্বান জানানো হলেও সিরীয় সেনাবাহিনী তা অমান্য করে তাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে। নিরাপত্তা সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরাক সীমান্তবর্তী এই তেলসমৃদ্ধ এলাকায় সিরীয় বাহিনীর মিত্র আরব যোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে এসডিএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব প্রাকৃতিক সম্পদ রাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত হলেও কুর্দি মিলিশিয়ারা এতকাল তা অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছিল। এই তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলো হাতছাড়া হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত এসডিএফ বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে এই আরব-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোতে দামেস্ক তাদের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।

একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আরব গোত্রীয় যোদ্ধাদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানের ফলে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত এলাকা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে। এই বিস্তৃতি ইরাক সীমান্তের বাঘুজ এলাকা থেকে শুরু করে আল-শুহাইল ও বুসাইরা শহর পর্যন্ত পৌঁছেছে।

এর আগে শনিবার রাতে সিরীয় সেনাবাহিনী উত্তরাঞ্চলীয় তাবকা শহর এবং সংলগ্ন বাঁধের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে রাক্কার পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রিডম ড্যাম’ (সাবেক বাথ ড্যাম) এলাকাটিও এখন সরকারি বাহিনীর দখলে রয়েছে।

সিরিয়ার এই সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। বাঘুজ থেকে তাবকা পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ এলাকার দখল এবং জ্বালানি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া সিরীয় সরকারের জন্য এক বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...