Logo Logo

কলম্বিয়ায় দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২৭


Splash Image

কলম্বিয়ার আমাজন অঞ্চলের গুয়াভিয়ারে প্রদেশে মাদক পাচারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে ভয়াবহ বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে এল রেতর্নো পৌরসভার গ্রামীণ এলাকায় এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।


বিজ্ঞাপন


আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত কোকেন উৎপাদন ও পাচারের কৌশলগত এলাকা নিজেদের কব্জায় নিতেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং কলম্বিয়ার ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, এই সংঘর্ষ মূলত ‘রেভোলিউশনারি আর্মড ফোর্সেস অফ কলম্বিয়ার’ (ফার্ক) দুটি বিবাদমান উপদলের মধ্যে হয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন কলম্বিয়ার মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি নেস্টর গ্রেগরিও ভেরা ওরফে ইভান মরডিস্কো এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজা ওরফে ক্যালারকা কর্ডোবা। গত বছরের এপ্রিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে এই দুটি গোষ্ঠী আলাদা হয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত ২৭ জনের সবাই মরডিস্কোর অনুসারী।

বর্তমানে আলেকজান্ডার ডিয়াজ মেন্ডোজার উপদলটি বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, ইভান মরডিস্কোর গোষ্ঠী সরকারি যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট পেট্রো পলাতক এই বিদ্রোহী নেতা মরডিস্কোকে কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

কলম্বিয়ার এই অভ্যন্তরীণ সংঘাত এমন এক সময়ে তীব্র হলো যখন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও গুস্তাভো পেট্রোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও সম্প্রতি মাদক পাচার রোধে ট্রাম্প ও পেট্রো একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে কলম্বিয়ার বৃহত্তম বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইএলএন (ELN) মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ছয় দশক ধরে চলা কলম্বিয়ার এই দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং কোটি কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...