বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) টোকিওতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাপানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত নিম্নকক্ষ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪৬৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গত অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে জনমত জরিপে উচ্চ সমর্থন পেলেও, পার্লামেন্টে নিজের দলের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা শক্তিশালী করাই তাঁর মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাপানের ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে পরিচিত এই রক্ষণশীল নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুসারী। তিনি চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাকে জাপানের জন্য ‘বৃহত্তম কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বর্ণনা করে গত ডিসেম্বরে রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৫৭ বিলিয়ন ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি তাঁর ‘প্রো-অ্যাক্টিভ’ প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রতি জনসমর্থন যাচাই করতে চান।
তবে তাকাইচির এই সাহসী সিদ্ধান্তের পেছনে বড় ধরনের ঝুঁকিও রয়েছে। জাপানের প্রধান বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে ‘সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন একটি মধ্যপন্থী জোট গঠন করেছে। বিশেষ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) দীর্ঘদিনের পুরনো শরিক ‘কোমেইতো’ দল এখন এই নতুন বিরোধী জোটের অংশ হওয়ায় নির্বাচনী লড়াই অত্যন্ত কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়েছেন। গত অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাপান সফরের সময় দুই দেশ বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করে, যাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির কঠোর অবস্থান বেইজিংয়ের সঙ্গে টোকিও’র সম্পর্ককে গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
ডিসেম্বরের জরিপ অনুযায়ী তাঁর জনপ্রিয়তা ৬০ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে থাকলেও, বিরোধী জোটের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বড় ধরনের চমক তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই আগাম নির্বাচন তাকাইচির হাতকে আরও শক্তিশালী করবে নাকি জাপানে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করবে, তা দেখার অপেক্ষায় এখন বিশ্ব রাজনীতি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...