বিজ্ঞাপন
বুধবার (২১ জানুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, পাকিস্তান গাজা বোর্ড অব পিসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বোর্ড গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে এবং উপত্যকাটির পুনর্গঠনে কার্যকর ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে পাকিস্তান আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এরই মধ্যে গত বুধবার দেশটির সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও দাভোসের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতের লক্ষ্যেই সেনাপ্রধানের এই সফর। তাঁর যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মাথায় গাজা বোর্ডে পাকিস্তানের যোগদানের বিষয়টি সামনে আসে। যদিও এ বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসনে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ দফা সংবলিত একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামাস ও ইসরায়েল উভয় পক্ষ এতে সম্মতি জানালে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে এই পরিকল্পনা কার্যকর হয়। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিচালনার জন্য একটি অরাজনৈতিক টেকনোক্র্যাট সরকার গঠিত হবে, যা ‘গাজা বোর্ড অব পিস’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
এই বোর্ডের মূল কাজ হবে গাজার টেকনোক্র্যাট সরকারকে নীতিগত নির্দেশনা প্রদান, পুনর্গঠনের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ এবং সেই তহবিলের সঠিক ব্যয় তদারকি করা। গত ১৭ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানকে এই বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান, যার প্রেক্ষিতে দেশটি এই গুরুত্বপূর্ণ পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজা বোর্ড অব পিসে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির প্রভাব বৃদ্ধির পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরালো করবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...