ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।
বিজ্ঞাপন
গতকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) ইরানি সংবাদমাধ্যম 'মিজান অনলাইন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতি বলেন, “সাধারণ মানুষ দাবি করছে যে, যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতায় উসকানি দিয়েছে, তাদের যত দ্রুত সম্ভব বিচারের আওতায় আনা হোক। আমরা জনগণের এই ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে বিক্ষোভটি দেশটির ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় এবং পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
ইরান সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। সরকারি বিবৃতিতে নিহতদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। বাকি ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সরকার। প্রশাসনের দাবি, এই ৬৯০ জন সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা এবং দাঙ্গাবাজিতে সরাসরি লিপ্ত ছিল।
প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে, অগ্নিসংযোগ করেছে এবং গণহত্যা বা ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল, তাদের প্রতি সামান্যতম নমনীয়তা প্রদর্শন করা হবে না। ইতোমধ্যে উসকানিদাতাদের শনাক্ত করতে ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে।
ইরান সরকার বিক্ষোভ দমনে সক্ষম হলেও এই গণ-অসন্তোষের রেশ এখনো কাটেনি। বিচার বিভাগীয় এই কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেশটিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...