বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছরখানেক আগে ‘ঘুঘুমারী সোশ্যাল ওয়ালফেয়ার ফাউন্ডেশন’ ও এলাকাবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে ধুলাটিপাড়ায় চাড়াল কাটা নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। তবে গত বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির তোড়ে সাঁকোটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। বর্তমানে সরু এই সাঁকোটি কয়েকটি গাছের খুঁটির ওপর বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। হালকা কোনো যানবাহন উঠলে পুরো সাঁকো কাঁপতে থাকে, যা যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির শঙ্কা জাগাচ্ছে।
যোগাযোগের বিকল্প পথ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এই ভাঙা সাঁকো দিয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। ঘুঘুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারামনি দৈনিক ভোরের বাণী-কে জানায়, "ভাঙা সাঁকো দিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগে, কখন জানি ভেঙে নিচে পড়ে যাই। তারপরও ভয় নিয়েই স্কুলে যেতে হয়।"
স্কুলশিক্ষক সুবাষ রায় জানান, এলাকাটি অবহেলিত হওয়ায় কোনো মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভাঙা সাঁকোর কারণে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি যানবাহন গ্রামে ঢুকতে পারে না।
এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। ঘুঘুমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "রাস্তাঘাট ও সেতুর বেহাল দশার কারণে বাইরে থেকে পাইকাররা আসতে চায় না। ফলে আমাদের ফসলের সঠিক দাম পাওয়া যাচ্ছে না।"
ঘুঘুমারী সোশ্যাল ওয়ালফেয়ার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুল আলম দৈনিক ভোরের বাণী-কে বলেন, "অনেকে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা এলাকাবাসী দ্রুত একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানাচ্ছি।" খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমানও অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই যেন সরকার চাড়াল কাটা নদীর ওপর একটি টেকসই কংক্রিট সেতু নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...