বিজ্ঞাপন
ঘটনার দিন সকালে ঘুমিয়ে ছিলেন শিহাব। আগের দিনই পরিবারের সদস্যরা তাকে আশ্বস্ত করে গিয়েছিলেন যে, জামিনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। হয়তো দু-এক দিনের মধ্যেই তিনি আপনজনদের কাছে ফিরে যাবেন। কিন্তু ‘কেস টেবিল’ থেকে আসা প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট বা পিডব্লিউ-এর খবরটি তার কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা আর অপেক্ষার পর মুক্তির বদলে নতুন মামলার খবর তার চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ আরও গভীর করে তোলে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাগারের পরিবেশে এমন মুহূর্তে একজন মানুষের মানসিক অবস্থা কতটা শোচনীয় হতে পারে, তা বাইরে থেকে কল্পনা করা কঠিন। জামিন হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে নতুন মামলা বা পিডব্লিউ যুক্ত হওয়া মানে মুক্তির পথ আরও দীর্ঘ হওয়া। শিহাবের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। সাড়ে তিন মাস কারাভোগের পর এমন মানসিক চাপ ও হতাশা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে।
অভিযোগ রয়েছে, বিপদের সেই চরম মুহূর্তে শিহাবের খোঁজখবর নিতে তেমন কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং পিডব্লিউ-এর জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস পর যখন তিনি জামিনে মুক্তি পান, তখন এক বিচিত্র ও রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যাদের তিনি পরম আত্মীয় বা আপনজন ভেবেছিলেন, তাদের কেউ কেউ তাকে আবারও জেলে পাঠানোর ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন।
এই ঘটনাটি কেবল আইনি নথিপত্রের একটি জটিলতা নয়, বরং এটি একজন মানুষের দীর্ঘ কারাভোগ, মানসিক নিঃসঙ্গতা এবং পারিপার্শ্বিক নির্মমতার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। কারাগারের সেই ঘোষণাটি শিহাবের জীবনে যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিজীবন নয়, বরং তাঁর ভবিষ্যতের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...