বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের কেংড়াছড়ি বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত কাশেম মেম্বার কেংড়াছড়ি বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং মৃত শামসুল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, গভীর রাতে যখন সবাই ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন হঠাৎ ঘরে আগুন লাগে।
কাশেম মেম্বারের মেয়ে মোসাঃ পারভীন সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি রান্নাঘরের চালের ওপর আগুন জ্বলছে। চোখের পলকে আগুনের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান আসবাবপত্র বের করার কোনো সুযোগই পাইনি। পরনের এক কাপড়ে কোলের শিশুদের নিয়ে কোনোমতে জীবন বাঁচিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছি। আমরা এখন পুরোপুরি নিঃস্ব।”
আরেক মেয়ে মোসাঃ বিথী জানান, তাঁরা প্রথমে মশারিতে আগুন দেখতে পেয়ে জেগে ওঠেন। তবে আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২নং ওয়ার্ড মেম্বার মহর আলী জানান, রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় জনগণ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ততক্ষণে রান্নাঘরসহ কাশেম মেম্বারের তিনটি ঘরই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে জরুরি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। পরিবারটির পুনর্বাসনের জন্য যা যা প্রয়োজন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি। স্থানীয়রা তাঁদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ও সরকারের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...