বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।
নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগমের (৩৫) পরিচয় পাওয়া গেছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় হানিফ মাস্টার এবং এরশাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও একাধিক সংঘর্ষে আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই বিরোধের জেরে বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালালে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়নার ছোড়া গুলিতে মুস্তাকিম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।
নিহতের মা শাহানা বেগম আর্তনাদ করে বলেন, "আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সাথে ছিল না। সকালে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়ানো অবস্থায় মাসুম তাকে গুলি করে। যারা আমার বুক খালি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।"
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুলিটি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...