বিজ্ঞাপন
অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ৩০ শতাংশ ছাঁটাই করেছে। এর ফলে নিউজরুমের ৩০০ জনেরও বেশি সাংবাদিকসহ ব্যবসায়িক বিভাগের শত শত কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। বুধবার অনেক কর্মীকে ইমেইলের মাধ্যমে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এই গণছাঁটাইয়ের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়িক লোকসান কাটিয়ে উঠতে জেফ বেজোস এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটির সম্প্রসারণ হলেও ২০২৩ সালে এর লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ মিলিয়ন ডলারে। দর্শক ও সাবস্ক্রিপশন কমে যাওয়ায় গত বছরের শেষদিকে উইল লুইসকে প্রকাশক হিসেবে নিয়োগ দেন বেজোস। লুইস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবর্তন আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলো।
এই ছাঁটাইয়ের ফলে ওয়াশিংটন পোস্টের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, পত্রিকাটির ক্রীড়া বিভাগ এবং বই বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। মেট্রো বিভাগ সংকুচিত করার পাশাপাশি দৈনিক নিউজ পডকাস্টও বন্ধের তালিকায় রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক কভারেজও কমে যাবে; বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদক ও সম্পাদকদের ছাঁটাই করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই ছাঁটাইয়ের দায় স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে এবং শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে নতুন পথ খুঁজে পাওয়া জরুরি ছিল।
তিনি উল্লেখ করেন যে, পুরোনো আমলের একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো অনুসরণ করে বর্তমান সময়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তগুলোকে ‘ভবিষ্যতের জন্য কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেওয়ার সময় জেফ বেজোস এর সম্পাদকীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমানের এই বিশাল ছাঁটাই মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এক বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...