বিজ্ঞাপন
ভিকটিম কিশোরী (নাম: ছদ্ম) পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে কিশোরী তার পিতার বিরুদ্ধে একাধিকবার যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে তার নিজ বাড়িতেই—যেখানে একজন সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিমের মা আলাদা বসবাস করেন। কিশোরীটি দীর্ঘদিন ধরে তার পিতা ও সৎ মায়ের সঙ্গে বসবাস করছিল। সৎ মায়ের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে কিশোরীর নীরব সহ্য করার দিনগুলো যেন আরও নিঃসঙ্গ হয়ে উঠেছিল।
সব ভয়, লজ্জা ও সামাজিক বাধা অতিক্রম করে অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নিজেই পাথরঘাটা থানায় হাজির হয় কিশোরীটি। একটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে সে নিজের জন্য নয়, যেন অনেক না-বলা কণ্ঠের জন্যও সাহসী এক পদক্ষেপ নেয়।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, “অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ভিকটিমের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একজন পিতার মতো আস্থার জায়গা থেকেই এমন অভিযোগ সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। সচেতন মহল মনে করছে, এই ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারই পারে ভুক্তভোগীর ভাঙা বিশ্বাসে ন্যায়ের আলো ফেরাতে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...