ছবি : সংগৃহিত
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে—আপনার কোন জেলা? আমি বলি, সাধারণ পরিবহন—সমগ্র বাংলাদেশ। তখন বলে, এটা তো ট্রাকের পেছনে লেখা থাকে। আমি বলি, যে রাস্তায় যখন প্রয়োজন, সেখানে আমি পৌঁছে যাই।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফলে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে স্থানীয় পাবলিক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
উন্নয়নে সমতার বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের যেসব এলাকা সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত, নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব এলাকা থেকেই উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে। উন্নয়নে কোনো আত্মীয়তা বা প্রভাব খাটবে না।
তিনি বলেন, এখানে মামু-খালুর কোনো টেলিফোন চলবে না। প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের বাড়ি কোথায়—সেটাও দেখা হবে না। ন্যায্যতার ভিত্তিতেই জনগণের পাওনা নির্ধারণ করা হবে।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, জুলাইয়ে যারা সংগ্রাম করে, রক্ত দিয়ে, পঙ্গু হয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে আমাদের বাংলাদেশ এনে দিয়েছে—তাদের কারো মরদেহ, কারো রক্ত আমাদের হাতের মুঠোয়, কাঁধের ওপর। এই ভার আমাদের বহন করতে হবে, এই আমানত আমাদের আদায় করতে হবে। তারা যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই হক আমাদের আদায় করতে হবে।
এ সময় তিনি বলেন, এর জন্যই দুটি ভোট—প্রথম ভোটটি হচ্ছে গণভোট। এখানে কী বলবেন—হ্যাঁ? এ কথা বলতেই উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন।
এরপর তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, আর ‘না’ মানে গোলামি। ইনশাআল্লাহ, বাউফলবাসী তাদের স্বাক্ষর রাখবে, সারা বাংলাদেশের ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, আর আল্লাহ না করুন—‘হ্যাঁ’ পরাজিত হলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।
মিথ্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষ, তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের জুলুমের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকেও চাঁদাবাজি করতে দেব না।
দেশের টাকা বিদেশে পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দেশ থেকে আর কাউকে ব্যাংক লুট করতে দেওয়া হবে না। শেয়ারবাজার লুণ্ঠন কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার—এগুলো আর চলবে না। আল্লাহ তৌফিক দিলে বিদেশে পাচার করা টাকা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় তিনি পটুয়াখালীর চারটি আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং পটুয়াখালী–২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...