Logo Logo

সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস, কাবিখা টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য নির্বাচনে আসি নাই: রফিকুল ইসলাম জামাল


Splash Image

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেছেন, যে বাংলাদেশ গড়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবন দিয়েছেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রক্ত দিয়েছেন—সেই বাংলাদেশের আদর্শ বাস্তবায়ন করতেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, “আমি এখানে কোনো কাবিখার টাকা ভাগ করে খাওয়ার জন্য আসিনি, কোনো চাঁদাবাজকে সঙ্গ দিতে আসিনি, কোনো মাস্তান বা সন্ত্রাসী নিয়ে রাজনীতি করতে আসিনি। আমি এসেছি সরকারি চাকরিতে দপ্তরী নিয়োগসহ সব ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য প্রতিহত করতে।”

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “আমি এসেছি জিয়াউর রহমানের আদর্শ নিয়ে, খালেদা জিয়ার আদর্শ নিয়ে এবং তারেক রহমানের আদর্শ নিয়ে। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে এই জনপদ হবে সব মানুষের জনপদ। এখানে কোনো মাদক কারবারি থাকবে না। বিএনপির আদর্শে একটি সন্ত্রাসমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত ও আধুনিক উন্নয়নমূলক বাংলাদেশ গড়াই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে আরেকটি ইতিহাস রচিত হয়েছে। ২০২৪ সালে দেশের তরুণ প্রজন্ম ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নবতর স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ইতিহাস গড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় দেশের মানুষ আবারও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে প্রশিক্ষিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঁশের লাঠি হাতে নিয়ে এ দেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায় রচিত হবে। যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছিল, এই নির্বাচনে তারাই আমাদের প্রতিপক্ষ। বিপুল ভোটে তাদের পরাজিত করে বাংলাদেশ নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে।”

রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, “আমি কোনো চাঁদাবাজ, মাস্তান বা সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দিতে আসিনি। স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করতে এসেছি। কন্ট্রাক্টরের পার্সেন্টেজ নিতে আসিনি। জিয়ার স্বপ্নের সন্ত্রাসমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতেই এসেছি।”

তিনি জানান, মা-বোনদের কাছ থেকে পাওয়া বার্তা অনুযায়ী আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয় উৎসব পালন করা হবে। তবে সেই বিজয় ছিনিয়ে আনতে চলমান সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নির্বাচনের আগের তিন দিন সবাইকে অনিদ্রা রাত কাটাতে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যাদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল, আজ তারাই আমাদের প্রতিপক্ষ। তাদের বিপুল ভোটে পরাজিত করার মধ্য দিয়েই আরেকটি ইতিহাস রচিত হবে।”

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “আমরা কখনো হারতে শিখিনি। মুক্তিযুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে বিজয়ী হয়েছি, আজ আবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে নামছি। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ৩০ লাখ শহীদের রক্তে গড়া একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপরেখা। সেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা মোকাবিলায় ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয় মিছিল হবে। এরপর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের এই রাজাপুর–কাঁঠালিয়া ছেড়ে যেতে হবে। ভোটকেন্দ্রে পাহারাদার থাকবে, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কেন্দ্র ছাড়বে না—যাতে কোনো ষড়যন্ত্র সফল না হয়।”

রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তালুকদার আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্ন।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল হক নান্টু, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তালুকদার শামীম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান, জেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব সোহাগ, রাজাপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ, সদস্য সচিব সৈয়দ নাজমুল হকসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...