Logo Logo

ফরিদপুরে চুরির ঘটনায় পাহারাদারের আত্মহত্যা


Splash Image

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় দোকান চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক নৈশপ্রহরী।


বিজ্ঞাপন


শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত ওয়াহিদুল উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি এক কন্যা এবং মাত্র চার মাস বয়সী যমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়াহিদুল বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার ডিউটি শেষ হওয়ার পর বাজারে একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই বাজার কমিটি তাকে চুরির মালামালের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিল।

ওয়াহিদুলের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তার স্বামী প্রায়ই বলতেন— "জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো।" তিনি বারবার বলতেন যে চুরির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, তবুও তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চুরির বিষয়টি নিয়ে বাজারে একটি সালিশি বৈঠক বসে। বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার ও অন্য নেতাদের উপস্থিতিতে পাহারাদারদের জানানো হয়, চোর ধরা না গেলে চুরি হওয়া প্রায় ৮০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ তাদেরই পরিশোধ করতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জানান, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াহিদুল এক মিনিট সময় নিয়ে আড়ালে যান। ফিরে এসে নিজের তিন সন্তানের কসম কেটে বলেন যে তিনি চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না। এ কথা বলেই তিনি মাটিতে ঢলে পড়েন। পরে জানা যায়, তিনি আড়ালে গিয়ে বিষপান করেছিলেন। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।

বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার দাবি করেন, তাকে কোনো সরাসরি অপবাদ দেওয়া হয়নি, কেবল পাহারাদার হিসেবে দায়বদ্ধতার কথা বলে দুই দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

তবে বাজারে টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা জানান, সভাপতির নির্দেশেই পাহারাদারদের সব টাকা পরিশোধ করার কথা বলা হয়েছিল।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বিষয়টি অবগত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...