বিজ্ঞাপন
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, মহড়া চলাকালীন নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক রুট দিয়ে সকল প্রকার জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের এক-চতুর্থাংশ এবং তরল গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই মহড়া এবং পথ বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মহড়াটি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন আইআরজিসি প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতেই পারস্য উপসাগরের আবু মুসা দ্বীপ ও এর আশপাশের জলসীমায় এই রণপ্রস্তুতি চলছে।
সূত্রমতে, আবু মুসা দ্বীপে ইরান ইতিমধ্যে ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতির বিপরীতে একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার' পরিচালনার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কড়াকড়ি এবং আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন'সহ পাঁচটি বিমানবাহী জাহাজ মোতায়েনের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় পর্বের বৈঠক চলছে। কূটনৈতিক আলোচনার সমান্তরালে ইরানের এই সামরিক মহড়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...