বিজ্ঞাপন
গত ৩ ফেব্রুয়ারি ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি ব্রিজের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, রিমাজ শেখ (১২) মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুনের সামনে ফুঁ দিয়ে ম্যাজিক দেখানোর চেষ্টা করছিল। এসময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তার সহপাঠী মারুফ শেখের (১২) গায়ে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এতে মারুফ গুরুতর দগ্ধ হন।
এ ঘটনায় আহত মারুফের মা মুঞ্জু বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, পূর্ব শত্রুতার জেরে পেট্রোল ঢেলে মারুফের গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং রিমাজের বাবা-মাও তাকে মারধর করেছেন। তবে রিমাজের মা নাছিমা বেগম এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঘটনার সময় তারা কেউই বাড়িতে ছিলেন না। উল্টো সেদিন সন্ধ্যায় তাদের শিশুকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
ননীক্ষির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শোভা রানী বিশ্বাস জানান, ঘটনার দিন ওই দুই ছাত্র স্কুলেই আসেনি। স্কুল সংলগ্ন ব্রিজে দুর্ঘটনাটি ঘটার পর স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সহপাঠী রকিবুল ইসলামের মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত হামলা ছিল না, বরং দুজনেই একসাথে ম্যাজিক দেখাতে গিয়ে এই বিপত্তি ঘটে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুকসুদপুর থানার এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রিমাজ নিজেই ৬০ টাকা দিয়ে পেট্রোল কিনে এনেছিল এবং খেলার ছলেই ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্তে রিমাজের বাবা-মায়ের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
১২ বছরের শিশুকে ১৯ বছর দেখিয়ে মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, এটি শিশুদের অসচেতন খেলাধুলার ফল, কোনো পরিকল্পিত অপরাধ নয়। তারা সুষ্ঠু ও মানবিক তদন্তের মাধ্যমে রিমাজের মুক্তি এবং ঘটনার ন্যায়সঙ্গত সমাধান দাবি করেছেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, খেলার ছলে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার জেরে শিশুদের ভবিষ্যৎ কি অপরাধের তিলক বয়ে বেড়াবে, নাকি ফিরে আসবে স্বাভাবিক জীবনে?
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...