Logo Logo

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড


Splash Image

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।


বিজ্ঞাপন


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট তাকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। এর ফলে গণতান্ত্রিক যুগে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ সাজার মুখোমুখি হলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রিসাইডিং জাজ জি গুই-ইয়ন বলেন, সামরিক আইন জারির অপচেষ্টার ফলে দক্ষিণ কোরিয়ায় অপূরণীয় সামাজিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বড় ঘটনার পরও আসামির মধ্যে অনুতপ্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এই রায় শুনে আদালত প্রাঙ্গণে থাকা ইউনের সমর্থকরা হতাশায় ভেঙে পড়েন এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার আইনে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় ইউনের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, পার্লামেন্ট ঘেরাও করতে সেনা মোতায়েন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে ইউন সাংবিধানিক শৃঙ্খলার ওপর ‘গুরুতর আঘাত’ হেনেছেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল অবশ্য শুরু থেকেই এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করে আসছেন। তার দাবি, তৎকালীন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘অসাংবিধানিক পার্লামেন্টারি একনায়কতন্ত্র’ সম্পর্কে জনগণকে সতর্ক করতেই তিনি সামরিক আইন জারির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে আদালত তার এই যুক্তি গ্রহণ করেননি।

রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় নির্বিকার ছিলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন এবং মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। আদালত চত্বরে হাজারো সমর্থকের উপস্থিতি এবং ক্ষোভ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, এই রায়কে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি গভীর রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...