বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত মোস্তফা মোল্লা ভাঙ্গা উপজেলার নাসিরাবাদ ইউনিয়নের বড়পাল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মোস্তফা মোল্লা ১৯৯৯ সালে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই থাকতেন। ওই সংসারে তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মোস্তফা তার নিজের বড় মেয়েকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন। ভুক্তভোগী বিষয়টি তার মাকে জানালেও তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। পরবর্তীতে মোস্তফা কিছুকাল গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এক মাস পর ফিরে এসে পুনরায় মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন।
২০২৫ সালের ২৯ মার্চ বিকেলে পুনরায় মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মোস্তফাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামা মো. বাবুল আলী বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সিরাজুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মোস্তফা মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই কঠোর দণ্ড প্রদান করেন। রায়ের পর আসামিকে কড়া পুলিশ পাহারায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আদালতের পিপি গোলাম রব্বানী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "এই ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে।"
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...