বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল (মেডিকেল কলেজ) রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম ফয়জুল বারীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে গোপালগঞ্জ আনসার ব্যাটালিয়ন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় হাসপাতাল রোড এলাকার ওই দুটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক অনিয়ম ধরা পড়ে। সরকারের ‘চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮’ অনুযায়ী, বর্জ্য উৎপাদনের স্থানেই তা ধরণ অনুযায়ী পৃথক করা, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত নিয়মে লেবেলিং করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠান দুটি এই সকল আইনি বিধানের কোনোটিই অনুসরণ করেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, চিকিৎসাজনিত বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ ও সংরক্ষণ করা না হলে তা জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এর ফলে সংক্রামক রোগ ও বর্জ্য জীবাণু চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের তীব্র আশঙ্কা থাকে।
এই অপরাধে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)’ এবং ‘চিকিৎসা-বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা, ২০০৮’ অনুযায়ী—‘মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘নিউ স্কয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-কে পৃথকভাবে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মনিরুজ্জামান শেখ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই ধরনের তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট বিধিমালার যথাযথ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলেও জানান তারা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...