বিজ্ঞাপন
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক হন পেসার নাহিদ রানা।
জবাবে ১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে আউট হলে ২৭ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তামিম। তার ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। এছাড়া ৩৩ বলে ২৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এর আগে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় বাংলাদেশ। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান মিতব্যয়ী বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাননি। এরপর ইনিংসের সপ্তম ওভারে স্পিন আক্রমণে যান অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ, কিন্তু সেখানেও সাফল্য আসেনি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিনকে সরিয়ে নাহিদ রানার হাতে বল তুলে দেন মিরাজ। আক্রমণে এসেই সাফল্য এনে দেন তরুণ এই পেসার। ওভারের শেষ বলে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করা এই ব্যাটার আউট হলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর নিজের পরের চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। তার শিকারে পরিণত হন শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা। এতে দ্রুত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার। এই পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফারও পূর্ণ করেন নাহিদ।
১৯তম ওভারে নাহিদের সঙ্গে উইকেট শিকারে যোগ দেন অধিনায়ক মিরাজ। ওই ওভারের শেষ বলে আব্দুল সামাদকে লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি করে ফেরান তিনি। এরপর ২৩তম ওভারের প্রথম বলে হোসাইন তালাতকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। একই ওভারের শেষ বলে শাহিন আফ্রিদিকেও সাজঘরে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে উইকেট পান তাসকিন আহমেদও। ২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ করান তিনি। ৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ শেষদিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়ে দলকে একশ পার করান তিনি। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করেই ১১৪ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
দুর্দান্ত বোলিং ও ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এই জয় দিয়ে সিরিজে দাপুটে সূচনা করল বাংলাদেশ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...