বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে হার না মানা প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে উঠলেও অল-ইম্পর্ট্যান্ট ম্যাচে চরম হতাশ করেছে আর্জেন্টিনা। মাত্র ৩৫ শতাংশ বল পজেশন রাখার পাশাপাশি গোটা ১২০ মিনিটের খেলায় প্রতিপক্ষের লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছড়ি ঘুরিয়েছে স্পেন, যেখানে নির্ধারিত সময়েই জয় না পাওয়াটা তাদের জন্য ছিল দুর্ভাগ্যজনক। আর্জেন্টিনা গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ অসাধারণ ১০টি সেভ করে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে না নিলে আরও আগেই নির্ধারিত হতো ফলাফল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে অন-টার্গেট কোনো শট নিতে ব্যর্থ হয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে ইয়ামালের দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টা ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে যায়, পরে যা থেকে ইয়ামাল জালের ঠিকানা খুঁজে নিতে পারেননি লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ বাধার কারণে। শুরুর চাপ সামলে সপ্তম মিনিটে মেসি বিপজ্জনক হতে পারলেও স্প্যানিশ গোলকিপার উনাই সিমন সামনে এগিয়ে এসে সেই সুযোগ নস্যাৎ করেন। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েনার রসায়নে ফাবিয়ান বাড়িয়ে দেন ওয়ারজাবালের দিকে, তবে তার বাঁ পায়ের জোরালো শট নিচে নেমে রুখে দেন মার্টিনেজ।
প্রথমার্ধের শেষদিকে স্পেনের আক্রমণ আরও বেগবান হয়। ৪১ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন এবং দুই মিনিট পর চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন, তার স্থলাভিষিক্ত হন নিকোলাস ওতামেন্দি। প্রথমার্ধ শেষে ৬৫ শতাংশ বল পজেশন ও ৩১৩টি নিখুঁত পাস নিয়ে পূর্ণ আধিপত্য দেখায় স্পেন। বিপরীতে মাত্র ১৫৫টি পাস দিতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলমুখে তারা কোনো শটই রাখতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি নিকো গঞ্জালেজকে উঠিয়ে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঠে নামান। তবে মাঠে নেমেই রদ্রিকে অযথাই ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন পারেদেস। স্পেনের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে ওতামেন্দির গুরুত্বপূর্ণ ট্যাকল এবং মন্তিয়েলের দুর্দান্ত ক্লিয়ারেন্সে নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় আর্জেন্টিনা। এরপর দুই দলই একাধিক বদলি খেলোয়াড় নামায়। স্পেনের হয়ে পেদ্রি, ফেরান তোরেস, মিকেল মেরিনো ও নিকো উইলিয়ামস মাঠে আসেন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা নামায় মেদিনা ও সিমিওনেকে।
দ্বিতীয়ার্ধের শেষভাগে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে স্পেন। পেদ্রি, কুবার্সি ও লাপোর্তের চেষ্টাগুলোর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও মেদিনা। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে উইলিয়ামসের শক্তিশালী শট রুখে দেন মার্টিনেজ। এর পরপরই কুবার্সিকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের ফ্রি-কিক ঠেকিয়ে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে টেনে নেন মার্টিনেজ।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস জালে বল পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় স্পেন। ২৭ সেকেন্ডের মাথায় পেদ্রো পোরোর ক্রসে উইলিয়ামসের শট পোস্টে লেগে ফেরত এলে ফিরতি বলে গোল নিশ্চিত করেন বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন।
ম্যাচের ১১৩ মিনিটে তোরেস আবারও বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, কিন্তু মেসির ফ্রি-কিক থেকে সিমিওনে বল স্পর্শ করতে ব্যর্থ হন এবং তার পরবর্তী শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের জয় নিয়ে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে উদযাপন শুরু করে স্পেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...