Logo Logo

গোপালগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিচার চেয়ে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন


Splash Image

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক কালাম তালুকদারের ওপর বর্বরোচিত হামলার বিচার এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরাম কার্যালয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁর স্ত্রী মিনু খানম।

লিখিত বক্তব্যে মিনু খানম জানান, গত ১২ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার প্রতিনিধি ও কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কালাম তালুকদার। সভা চলাকালীন তিনি হলরুম থেকে বের হলে করিডোরে ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

অভিযোগে বলা হয়, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাসসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং নিচতলায় টেনে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১৭ মার্চ তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিনু খানম অভিযোগ করেন, ইউএনও কার্যালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থানে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহেও গড়িমসি করা হচ্ছে, যা তথ্য গোপনের শামিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ তাঁদের লিখিত অভিযোগটি এজাহার (এফআইআর) হিসেবে গ্রহণ করেনি।

যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মুঠোফোনে বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন, তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় সাংবাদিকের পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সাংবাদিক পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন:

১. দ্রুততম সময়ে অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

২. চিহ্নিত হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।

৩. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মামলার চার্জশিট দাখিল করতে হবে।

৪. পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় বিশেষ হটলাইন চালু করতে হবে।

মিনু খানম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...