বিজ্ঞাপন
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে উপজেলার নিচু এলাকার কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় ঘরে তোলার অপেক্ষায় থাকা ফসল নষ্ট হওয়ার মুখে পড়েছে। নিরুপায় হয়ে অনেক কৃষক পানির নিচ থেকে পচন ধরা ধান কেটে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা তাদের আর্থিক ক্ষতির মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হালির হাওরের ছাতিধরা, স্লুইস গেট, নেতুয়ার কাড়া, নয়ন্না, বিশাইল্লা ও মাগুরা এলাকা; পাগনা হাওরের ছাগাইয়া ভান্ডার; ভীমখালীর কলকতখা, ভান্ডা, মল্লিকপুর, উগলি, কৃষ্টনগর, হারার কান্দি ও মাখর খলা দিগা এবং ছনুয়ার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিবৃষ্টির পাশাপাশি অপরিকল্পিত ফসলরক্ষা বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ধান কাটার উপযোগী হয়ে যেত। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তাদের সারা বছরের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। বর্তমানে কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে সেচ পাম্প বসিয়ে দিন-রাত পানি সরানোর চেষ্টা চালালেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। দিশেহারা কৃষকরা এখন দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা জানান, উপজেলায় প্রায় ২৩০ হেক্টর জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত বন্ধ হলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।
তবে কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে পুরো মৌসুমের ফসলহানি ঘটতে পারে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...