Logo Logo

গোপালগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ২৭ রোগী হাসপাতালে


Splash Image

গোপালগঞ্জে হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলাজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ২৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।


বিজ্ঞাপন


সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরে ১০ জন, কোটালীপাড়ায় ৭ জন, কাশিয়ানীতে ৪ জন এবং মুকসুদপুর উপজেলায় ৬ জন রয়েছেন। বর্তমানে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪২ জন রোগী চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ১০ মাসের শিশু মোসায়েদ সিকদারের বাবা মামুন সিকদার জানান, প্রথমে প্রচণ্ড জ্বর ও পরে শরীরে লালচে র‍্যাস দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টিকা দেওয়ার বয়সে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি আক্রান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্য এক শিশুর স্বজন বিলকিস বেগম জানান, তীব্র জ্বর, সর্দি ও কাশির কয়েক দিন পর সারা শরীরে লালচে গুটি দেখা দেওয়ায় তারা আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

আইসোলেশন ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স বিউটি হালদার জানান, বর্তমানে রোগীর চাপ আগের তুলনায় অনেক বেশি। আগে বছরে হাতেগোনা কয়েকজন রোগী আসলেও এখন প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। করোনা-পরবর্তী প্রজেক্টের অংশ হিসেবে তৈরি এই ওয়ার্ডে সীমিত সরঞ্জাম ও জনবল নিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, "হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্তদের সাধারণ রোগী থেকে আলাদা রেখে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তাদের পর্যবেক্ষণ করছেন।" তিনি আক্রান্তদের প্রচুর তরল খাবার ও পুষ্টিকর খাদ্য দেওয়ার পরামর্শ দেন।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সংক্রমণের হার অন্যান্য জেলার তুলনায় এখনো কম। আমাদের ভ্যাকসিনেশন বা টিকাদান কর্মসূচির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা আছে। তবে আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) থেকেই এটি শুরু হচ্ছে না।" তিনি জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...