বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পবিপ্রবির ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা এই ডিগ্রি পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। পরবর্তীতে ৪ মার্চ থেকে তারা সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেন। শিক্ষকদের সাথে দফায় দফায় আলোচনায় কোনো সুরাহা না হওয়ায় গত ৩ এপ্রিল (শুক্রবার) রাতে শিক্ষার্থীরা বরিশাল ক্যাম্পাসের ওল্ড একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
একাডেমিক ভবন তালাবদ্ধ থাকায় শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা ক্যাম্পাসের খোলা মাঠে কম্বাইন্ড ডিগ্রির একটি ব্যাচের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা গ্রহণ করেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে গেলে ফিজিওলজি অ্যান্ড ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক রুহুল আমিন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যাপক রুহুল আমিন তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা একাডেমিক ভবনে তালা দিয়েছো, তোমাদের সাথে আমাদের কোনো কথা নেই। এখন দেশে দলীয় সরকার বিদ্যমান, আমরা এখানে যারা আছি সবাই দলীয় শিক্ষক। তোমরা সংঘবদ্ধ হয়ে যা ইচ্ছা তাই করবে, এটা হতে পারে না।”
আন্দোলনরত ডিভিএম লেভেল-৪ এর শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি, কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য আশ্বাস মেলেনি। বাধ্য হয়ে আমরা ভবন তালাবদ্ধ করেছি। আজ দেখলাম মাঠে কোনো প্রকার গার্ড বা আনুষ্ঠানিক তদারকি ছাড়াই নামমাত্র পরীক্ষা ও ভাইভা নেওয়া হচ্ছে। আমরা কথা বলতে গেলে শিক্ষকরা দলীয় পরিচয়ে আমাদের সাথে ক্ষুব্ধ আচরণ করেন।"
হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক রুহুল আমিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "এটা কোনো হুমকি ছিল না। ছেলেরা আসার পর তাদের থামানোর উদ্দেশ্যে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।"
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...