বিজ্ঞাপন
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে নটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাহেবুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে ১৫ দিন কারাভোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জেলে থাকা অবস্থায়ও বেতন উত্তোলন করেন এবং এ সংক্রান্ত তথ্য সার্ভিস বুকে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধা দেন। এছাড়া এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই তিনি উপজেলা সদরে চলে যান। শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসে তদবির এবং স্থানীয় চায়ের দোকানে রাজনৈতিক আড্ডায় সময় কাটান বলেও অভিযোগ ওঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেকে ক্ষমতাধর হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতাও রয়েছে তার।
বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের মালামাল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে শ্রেণিকক্ষেই কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে সাহেবুল ইসলাম ও তার স্ত্রী তাইফুন নাহারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক সমিতির পদধারী এই নেতা বর্তমানে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী দাবি করে সাধারণ শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ তার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযোগ হিসেবে উঠে আসছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম বলেন, “একটি মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। জেল খাটার বিষয়টিও ছিল সাজানো।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেমউদ্দিন বলেন, “ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সদরে অবস্থান করা দুঃখজনক। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...