বিজ্ঞাপন
রোববার (৫ এপ্রিল) আদালতের মাধ্যমে মিলন মন্ডলকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকেই কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে তার দুই শিশু সন্তান। বর্তমানে তারা পাশের এক প্রতিবেশীর বাড়িতে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ বয়সে বাবা-মা দুজনকেই হারানোর মতো পরিস্থিতি শিশু দুটির মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। আশপাশের লোকজন সান্ত্বনা দিলেও তাদের প্রশ্ন একটাই—“বাবা কবে ফিরবে?”
শনিবার (৪ এপ্রিল) গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা পশ্চিমপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বপ্না বাড়ৈর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা পরেশ বাড়ৈ কাশিয়ানী থানায় জামাতা মিলন মন্ডলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মিলনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
মিলন মন্ডল পেশায় একজন দিনমজুর। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি একজন। তার মা মৃত এবং বাবা নিরোধ মন্ডল জীবিত থাকলেও ঘটনার পর থেকেই তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। ফলে বাড়িটি এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা।
এ অবস্থায় শিশু দুইটি চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। তাদের দেখভালের মতো নিকটাত্মীয় কেউ সামনে না আসায় প্রতিবেশীরাই আপাতত আশ্রয় দিয়েছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর আগে কোটালীপাড়া উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নের কুমুরিয়া গ্রামের পরেশ বাড়ৈর মেয়ে স্বপ্নার সঙ্গে মিলনের বিয়ে হয়। শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে স্বপ্না মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
প্রথমে খুলনা, পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা করা হয়। কিছুদিন সুস্থ থাকলেও পরে আবার অসুস্থতা দেখা দেয়। এদিকে আর্থিক সংকটের কারণে গত তিন মাস ধরে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ চালিয়ে যেতে পারেননি মিলন।
নিহতের বাবা পরেশ বাড়ৈ দাবি করেন, তার মেয়েকে দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, মিলন মন্ডলের সঙ্গে অন্য এক নারীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল, যা সহ্য করতে না পেরে স্বপ্না আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
তবে প্রতিবেশীরা জানান, বিয়ের দুই বছর পর থেকেই স্বপ্নার মানসিক সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। তারা নিজেরাই চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন।
প্রতিবেশী জানকি মণ্ডল ও উৎসব মন্ডল বলেন, “স্বপ্না অসুস্থ ছিল, চিকিৎসাও হয়েছে। তবে মিলন এখন জেলে, পরিবারের অন্যরা পলাতক—সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে দুইটা ছোট শিশু। তাদের কথা ভেবে মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখা দরকার।”
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, নিহতের বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে মিলন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে মিলনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নিশান ও সৃজনের ভবিষ্যৎ কী? মা নেই, বাবা কারাগারে, স্বজনরা পলাতক—এমন বাস্তবতায় তারা এখন সমাজের সহানুভূতি ও সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও শিশু দুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...